May 15, 2026, 11:28 am
দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, অকার্যকরতা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি থেকে বের করে এনে বাস্তবভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোয় রূপ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
অতীতে অনুমোদিত অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভাবে “মৃত দলিলে” পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, এবার এমন একটি অর্থনৈতিক কৌশলপত্র তৈরি করা হচ্ছে যা জনগণের মতামত, বাস্তবতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত “অর্থনৈতিক কৌশলপত্র প্রণয়ন সংক্রান্ত এডভাইজরি কমিটির দ্বিতীয় সভা” শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিতুমীর বলেন, অতীতে পরিকল্পনা কমিশনকে অনেক ক্ষেত্রে শুধু “রাবার স্ট্যাম্প” হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্প গ্রহণে রাজনৈতিক বিবেচনা ও স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতা প্রাধান্য পেয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ছিল বড় ঘাটতি।
ফলে প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, একাধিকবার সংশোধন করতে হয়েছে এবং সময়মতো বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, “অনেক পরিকল্পনা কাগজে-কলমে উচ্চাভিলাষী ছিল, কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল ছিল না। অনুমোদনের পরদিন থেকেই সেগুলো কার্যত মৃত দলিলে পরিণত হতো। এবার আমরা সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।”
অর্থ উপদেষ্টা জানান, নতুন পরিকল্পনা কাঠামোয় চারটি বড় সংস্কারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, প্রকল্প নির্বাচনকে জনগণের প্রত্যাশা ও নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে।
দ্বিতীয়ত, নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। তৃতীয়ত, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করে স্বচ্ছতা বাড়ানো হবে। আর চতুর্থত, পুরো পরিকল্পনা ব্যবস্থাকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোয় রূপ দেওয়া হবে।
তিতুমীর বলেন, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি প্রকল্পের তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। এতে নাগরিকরা নিজেরাই যাচাই করতে পারবেন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতির মধ্যে কতটা মিল রয়েছে। এর মাধ্যমে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, নতুন অর্থনৈতিক কৌশলে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা, পরিমাপযোগ্য সূচক এবং বাস্তবসম্মত কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা যায়।
অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, পরিকল্পনা কমিশনকে একটি কার্যকর নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে। এখন থেকে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক বিবেচনা নয়, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা, জনগণের প্রয়োজন এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জোনায়েদ সাকি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মনজুর হোসেন।
ইএটি
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.